প্রকাশিত: ০৩/০১/২০১৫ ৩:২০ অপরাহ্ণ , আপডেট: ০৩/০১/২০১৫ ৬:১৮ অপরাহ্ণ

নির্বাচনের বর্ষপূর্তি ঘিরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির মধ্যে দুই দলের নেতাদের বক্তব্য উত্তাপ ছড়াচ্ছে দেশের রাজনীতিতে।

৫ জানুয়ারি ঢাকায় জনসভা করার বিষয়ে পুলিশের সাড়া না পাওয়ায় বিএনপি নেতারা বলছেন, ওইদিন তারা ‘যে কোনো মূল্যে’ সভা করবেন।

একই দিনে ঢাকার ১৬ স্থানে ‘গণতন্ত্রের বিজয়ে সমাবেশ’ করার কর্মসূচি রয়েছে আওয়ামী লীগের। ক্ষমতাসীন দলটির নেতারা বলছেন, বিএনপির যে কোনো ‘অশুভ তৎপরতা’ তারা মোকাবেলা করবেন।

শুক্রবার দিনভর এ দুই দলের নেতাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে জনমনে নতুন করে সংঘাতের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এর আগে গত ২৭ ডিসেম্বর গাজীপুরের বদরে আলম কলেজ মাঠে বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়ার জনসভার কর্মসূচি থাকলেও তার ছেলে তারেক রহমানের এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ সেখানে পাল্টা সমাবেশ ডাকে।

এ নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে স্থানীয় প্রশাসন সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করলে পিছু হটতে বাধ্য হয় বিএনপি। সমাবেশ করতে না দেওয়ার অভিযোগে তারা গাজীপুরে একদিন এবং সারা দেশে আরেকদিন হরতাল করে।

গতবছর ৫ জানুয়ারি বিএনপি ও শরিকদের বর্জনে ব্যাপক সহিংসতার মধ্যে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়, যাতে নির্বাচিত হয়ে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ।

ক্ষমতাসীন দলটি এ বছর দিনটি উদযাপন করবে ‘সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষা দিবস’ হিসাবে। অন্যদিকে বিএনপি ৫ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসাবে পালনের ঘোষণা দিয়েছে।

ওইদিন রাজধানীতে সমাবেশ করার অনুমতি চেয়ে গত ২২ ডিসেম্বর ঢাকার পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দেয় বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। এর দুদিন পর সংবাদ সম্মেলন করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ জানান, তারা ৫ জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি পেয়েছেন।

শুক্রবার সকালে রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, “গত বছরের ৫ জানুয়ারি একতরফাভাবে নির্বাচন হয়েছে। ওই নির্বাচনকে ঘিরে সৃষ্ট সংকট নিরসনে বৃহস্পতিবার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সাত দফা প্রস্তাব দিয়েছেন।

“সরকারকে বলব, আর বিলম্ব নয়। তার প্রস্তাব নিয়ে দ্রুত আলোচনায় বসুন। গতবছরের ৫ জানুয়ারি থেকে এবারের দিনটি হবে ব্যতিক্রম। সেদিন থেকেই শুরু হবে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার নতুন অভিযাত্রা।”

কিন্তু ‘নাশকতার আশঙ্কা থাকলে’ ৫ জানুয়ারি ঢাকায় বিএনপিকে যে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না- তা মোটামুটি স্পষ্টই জানিয়ে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

এদিন বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকের প্রশ্নর জবাবে তিনি বলেন,“যদি নাশকতার আশঙ্কা থাকে সেক্ষেত্রে সমাবেশ করার অনুমতি পাবে না। এ বিষয়ে আইনশৃ্ঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।”

কাছাকাছি সময়ে আরেক অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান বলেন, “৫ জানুয়ারি জনসভা আমাদের করতেই হবে। সেই লক্ষ্যে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।”

তিনি বলেন, অনুমতি দেওয়া হবে কি না সেটি সরকারের বিষয়। তবে বিএনপির যা করণীয়, তা তারা করবেন।

অন্যদিকে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এক আলোচনায় বিএনপি নেতাদের সতর্ক করে আওয়ামী লীগের সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, “ওই জনসভা নিয়ে কোনো ঝামেলা আপনারা করতে যাবেন না।…বিশ্বের কোনো গণতন্ত্রেই অশান্তি করে লোক হত্যার সভা করার অধিকার দেওয়া হয়নি।”

এই পরিস্থিতিতে বিকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আসেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

জনসভার অনুমতি নিয়ে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ‘গড়িমসি’ করছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, “দৃঢ়তার সঙ্গে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে আমরা বলতে চাই, ৫ জানুয়ারি আমরা কর্মসূচি করবই।”

ওইদিন ‘শান্তিপূর্ণ’ জনসভা করার অঙ্গীকার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সার্বিক সহযোগিতাও চান রিজভী।

সরকার কর্মসূচির অনুমতি না দিলে কী হবে- এমন প্রশ্নে রিজভী বলেন, “অনুমতি না দিলে সেক্ষেত্রে আমাদের কর্মসূচি দিতেই হবে। এজন্য সরকারকেই দায় নিতে হবে।”

বিএনপির এ অবস্থানের সমালোচনা করে ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, “বিএনপির উসকানিমূলক বক্তব্যই প্রমাণ করে, তারা আইনের শাসনে বিশ্বাস করে না। এ ধরনের বক্তব্য বরদাশত করা হবে না। অশুভ তৎপরতা থাকলে মোকাবেলা করা হবে।”

এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ৫ জানুয়ারি সংঘাতের কোনো আশঙ্কা তিনি দেখছে না।

“কোন সংঘাত হবে না। যে সব কাগুজে বাঘ কথা বলছে, তাদের খুঁজে পাবেন না।”

আগের দিন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও ব্যাবসায়ীদের সঙ্গে এক বৈঠকে বলেন, দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার কোনো শঙ্কা তিনি দেখছেন না।

আন্দোলনরত রাজনীতিকদের আলোচনার টেবিলে আনতে সরকারের প্রতি ব্যবসায়ীদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে মন্ত্রীর এই বক্তব্য আসে।

মেট্রোপলিটান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এমসিসিআই) নবগঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি নাসিম মঞ্জুর ওই বৈঠকে বলেন, “ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আবেদন করব- অর্থনীতিকে বাঁচিয়ে রাজনীতি করুন। আমরা ২০১৩ সালের মতো কিছু চাই না। অর্থমন্ত্রীকে বলব, আপনারা আন্দোলনরতদের আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসুন।
Hanif_Rizviসুত্র বিডিনিউজ

পাঠকের মতামত

নড়িয়ার নওপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান জাকির মুন্সীর সুনাম নষ্টের চেষ্টার পায়তারা!

নড়িয়ার নওপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান জাকির মুন্সীর সুনাম নষ্টের চেষ্টার পায়তারা!

  শরীয়তপুর প্রতিনিধি : শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের বারবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ...
চকরিয়ায় “ডেভিল হান্টে” কাউন্সিলরসহ ৮ আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার

চকরিয়ায় “ডেভিল হান্টে” কাউন্সিলরসহ ৮ আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার

মুকুল কান্তি দাশ, চকরিয়া: অপারেশন “ডেভিল হান্টে” সাবেক কাউন্সিলরসহ আটজন আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে কক্সবাজারের ...
বদি উখিয়া-টেকনাফে উন্নয়ন করেনি, মাদকের চাষ করেছে : শাহজাহান চৌধুরী

বদি উখিয়া-টেকনাফে উন্নয়ন করেনি, মাদকের চাষ করেছে : শাহজাহান চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক:: কক্সবাজারের উখিয়ায় নিত্যপণ্য, জ্বালানি তেল ,পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি, নেতাকর্মী হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ...